Loading...
/ BLOG /

হজ ও ওমরাহ কি? এদের মাঝে পার্থক্য কি?

Hajj vs Umrah

হজ ও ওমরাহ কি? এদের মাঝে পার্থক্য কি?

হজ (Hajj)

হজ এমন একটি ধর্মীয় আচার যা সমস্ত মুসলমানরা যতক্ষণ শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক ভাবে যাতায়াত করতে সক্ষম হয় ততক্ষণ হজ পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতা মূলক। জীবনের অন্তত একবার আল্লাহর ঘর কাবা ঘুরে দেখা বাধ্যতামূলক। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ৩-৪ মিলিয়ন হজযাত্রী মক্কায় বৃহত্তম এই হজযাত্রা করেন, এটি পৃথীবির মানুষের একক বৃহত্তম সমাবেশে পরিণত হয়।

হজ হল ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি স্তম্ভ। সুতুরাং হজযাত্রা একজন মুসলিমের জীবনে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ওমরাহর চেয়েও বৃহত্তর ধর্মীয় তাত্পর্য রয়েছে। এটি অন্যতম আধ্যাত্মিক ও ফলপ্রসূ কাজ এবং এর মাধ্যমে একজন ইমানদ্বার মুসলিমের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। আল্লাহর দরবারে একবার হজ কবুল হয়ে গেলে, অতীতের সমস্ত পাপ আল্লাহর রহমতে মাফ হয়ে যায় এবং তার জান্নাতে পৌঁছানোর রাস্তা প্রসস্ত হয়ে যায়।

ইসলামিক ক্যালেন্ডারের মতে বছরের নির্দৃষ্ট মাসে হজ অনুষ্ঠিত হয় আর সেই গুরুত্বপূর্ন মাস টি হচ্ছে জিলহজ মাস। এই জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ হচ্ছে পবিত্র হজের নির্দিষ্ট সময়। বছরের অন্য কোনও মাসে বা সময়ে হজ পালন করা যায় না।

হজের সময়, আল্লাহর সন্তষ্টি ও আনুগত্য অর্জনে প্রত্যেক ধর্মপ্রান মুসলমানের জন্য হজের তিনটি ফরয পালনীয়। হজের তিনটি ফরয হল-

  1. ইহরামঃ- হজের প্রথম ফরয ইহরাম। ইহরাম অর্থ বারন করা, ইহরামের মধ্য দিয়ে হজ শুরু হয়। হজ যাত্রীদের অবশ্যই ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে। ইহরাম এমন একটি ব্যবস্থাপনা যেখানে তারা অবশ্যই যৌন ক্রিয়াকলাপে অংশ নেবে না, লড়াই করবে না বা পাপাচার করবে না এবং সাদা পোশাক পরতে হবে যা পবিত্রতা, সাম্যতা এবং ঐক্যের প্রতীক।
  2. উকুফে আরাফাঃ- হজের দ্বতীয় ফরয উকুফে আরাফা। উকুফে আরাফা হচ্ছে ৯ই জিলহজ্জের দ্বিপ্রহরের বা দুপুরের পর হতে অর্থাৎ সূর্য ঢলার পর হতে ১০ই জিলহজ্জ সুব্হে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময় আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকা বা অবস্থান করা।
  3. তাওয়াফঃ-হজের তৃতীয় এবং শেষ ফরয হচ্ছে তাওয়াফ। এ সময় সম্মানিত হাজী সাহেব গন ইসলামের সর্বাধিক পবিত্র স্থান মসজিদ আল-হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবাগৃহের চর্তুদিকে সাতবার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।

ধর্মপ্রান হাজীদের জন্য হজের ছয়টি ওয়াজিব রয়েছে

  1. সাফা ও মারওয়া পাহাড়গুলো মধ্যে ৭ বার সায়ি করা।
  2. অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যদয় পর্যন্ত একমুহূর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা।
  3. মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিক্ষেপ করা।
  4. হজে তামাত্তু ও কিবরান কারীরা হজ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা।
  5. এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল কাটা।
  6. মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালে তাওয়াফ করা।

এছাড়াও হজের যে সমস্ত আমল রয়েছে তার সবই সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব।

ওমরাহ (Umrah)

ইসলামে নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর জিয়ারত করাকে ওমরাহ বলে। ওমরাহ পালনের নিয়ম হল- ইহরাম বাধা, তালবিয়া, ক্বাবা শরীফের চর্তুদিকে তাওয়াফ করা, সাফা ও মারওয়া’র মধ্যস্থলে সাঈ করা এবং মাথা মুণ্ডনো বা মাথার চুল কাটা।

হজ এবং ওমরাহর মধ্যে পার্থক্য

হজ ও ওমরাহর মধ্যে অনেক ধরনের পার্থক্য বিদ্যমান। এ পার্থক্যটা মূলত গুরুত্ব এবং পদ্ধতির মধ্যে।

  • প্রত্যেক শারীরিকভাবে উপযুক্ত এবং আর্থিকভাবে ভাবে সক্ষম মুসলমানের জন্য হজ ফরজ। আপর পক্ষে ওমরাহ পালন করা সুন্নত।
  • হজ শুধু মাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ে পালন করা যয় কিন্তু ওমরাহ বৎসরের যে কোন সময়ই পালন করা যায়। তবে ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ওমরাহ করা মাকরূহ।
  • হজের মধ্যে আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান, দু’নামায এক সাথে আদায় করা ও খুতবার বিধান রয়েছে এবং তাওয়াফে কুদূম এবং তাওয়াফে বিদা’ র বিধানও রয়েছে কিন্তু ওমরাহ এর মধ্যে এসবের বিধান নেয়।
  • হজের মধ্যে জামরাতুল আক্বাবাহ’তে রামী (কংকর নিক্ষেপ) করার সময় মওকূফ করা হয়। আর ওমরাহর মধ্যে তাওয়াফ আরম্ভ করার সময় তালবিয়াহ পড়া মওকুফ করা হয়।
  • হজ কোন কারনে নষ্ট হলে পরবর্তী বছর পুনরায় তা সম্পন্ন করতে হয় কিন্তু ওমরাহ নষ্ট হলে বা জানাবত (ওই নাপাকী যা দ্বারা গোসল ফরয হয়।) অবস্থায় তাওয়াফ করলে (দম হিসেবে) একটা ছাগল বা মেষ জবেহ করা যথেষ্ট।